সংক্ষিপ্তসার: ভারতের প্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি উচ্চগতির ট্রেনের ট্র্যাক পরীক্ষা আগামী বছর মে অথবা জুনে শুরু হতে পারে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলক দৌড় শুরু হওয়ার আগে ট্রেনের প্রথম বডি ফ্রেম তৈরি হয়ে গিয়েছে এবং সেটি শক্তি যাচাইয়ের পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার পর ধাপে ধাপে যাত্রী পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। মুম্বই আহমেদাবাদ উচ্চগতির রেল প্রকল্পের প্রথম পরিষেবা চালুর প্রস্তুতিও এগোচ্ছে।
প্রযুক্তি ডেস্ক: ভারতের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের অপেক্ষা এবার আরও বাস্তব হয়ে উঠছে। বহু প্রতীক্ষিত বুলেট ট্রেন প্রকল্প ধীরে ধীরে পৌঁছে যাচ্ছে পরীক্ষামূলক যাত্রার পর্যায়ে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম উচ্চগতির ট্রেন ২০২৭ সালের মে অথবা জুন মাসে রেলপথে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হতে পারে। গুজরাটের ভদোদরায় ‘নমো ফর বিকশিত ভারত’ অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন তিনি। রেলমন্ত্রী জানান, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ট্রেনের প্রথম বডি ফ্রেম ইতিমধ্যেই প্রস্তুত। এখন সেটির শক্তি এবং কাঠামোগত স্থায়িত্ব পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেই পর্ব শেষ হলে ট্র্যাকে শুরু হবে আসল পরীক্ষা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই পরীক্ষামূলক দৌড় প্রায় দুই থেকে চার মাস চলতে পারে।
ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প তৈরি হচ্ছে মুম্বই আহমেদাবাদ উচ্চগতির রেল করিডরকে কেন্দ্র করে। প্রায় ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে মোট ১২টি স্টেশন থাকবে। মুম্বই, থানে, বিরার, বোইসর, ভাপি, বিলিমোরা, সুরাট, ভরুচ, ভদোদরা, আনন্দ, আহমেদাবাদ এবং সাবরমতী এই করিডরের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। পুরো পথ একসঙ্গে চালু না করে ধাপে ধাপে পরিষেবা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে সুরাট থেকে বিলিমোরা অংশ চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ শুরুতেই গোটা করিডর খুলে না দিয়ে যে অংশ প্রস্তুত হবে, সেখান থেকেই ধীরে ধীরে পরিষেবা এগিয়ে নেওয়া হবে।
এই প্রকল্পের অন্যতম বড় দিক হল দেশীয় প্রযুক্তিতে উচ্চগতির ট্রেন তৈরির চেষ্টা। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা BEML এই ট্রেন তৈরির কাজে যুক্ত রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ট্রেনটিতে থাকবে আটটি কোচ। ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার গতিতে পরিষেবা চালানোর লক্ষ্য রয়েছে। পরীক্ষার সময় ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত তোলা হতে পারে। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিষেবা শুরু হলে ভদোদরা থেকে মুম্বই যেতে সময় লাগতে পারে মাত্র দেড় ঘণ্টা। ফলে মুম্বই এবং গুজরাটের শিল্পাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ অনেক দ্রুত হতে পারে। ব্যবসা, কর্মসূত্রে যাতায়াত এবং আন্তঃনগর যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রেন তৈরির পাশাপাশি মুম্বই আহমেদাবাদ করিডরের পরিকাঠামোর কাজও এগোচ্ছে। সুরাট থেকে ভাপি অংশের নির্মাণকাজ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। ট্রেনকে ট্র্যাকে নামানোর আগে রেলপথ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, সংকেত ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা পরিকাঠামো ভালোভাবে পরীক্ষা করা হবে। উচ্চগতির ট্রেনের ক্ষেত্রে সামান্য ত্রুটিও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পরীক্ষামূলক দৌড়ের পরেও একাধিক ধাপে নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের প্রক্রিয়া থাকবে। মে বা জুন ২০২৭ সালে পরীক্ষা শুরু হলে যাত্রী পরিষেবা ঠিক কবে শুরু হবে, তা নির্ভর করবে সেই পরীক্ষার ফল এবং নির্মাণকাজের অগ্রগতির উপর।
মুম্বই আহমেদাবাদ উচ্চগতির রেল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছিল ২০১৭ সালে। দীর্ঘ অপেক্ষা, নির্মাণগত জটিলতা এবং নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে প্রকল্পটি এখন পরীক্ষামূলক যাত্রার কাছাকাছি পৌঁছেছে। দেশীয়ভাবে উচ্চগতির ট্রেন তৈরির এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে ভারতের রেল প্রযুক্তি এবং দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতার জন্যও তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দিল্লি বারাণসী, মুম্বই পুনে এবং বেঙ্গালুরু চেন্নাইয়ের মতো আরও কয়েকটি উচ্চগতির রেলপথের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আপাতত সবার নজর মুম্বই আহমেদাবাদ করিডরের দিকে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের মে অথবা জুনে ভারতের নিজস্ব উচ্চগতির ট্রেন প্রথমবার পরীক্ষামূলকভাবে রেলপথে ছুটতে পারে। দেশের বুলেট ট্রেনের অপেক্ষায় তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই, কবে শুরু হবে সেই প্রথম পরীক্ষামূলক দৌড়?
