সংক্ষিপ্ত সার: নয়াদিল্লির ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাক্ষাৎ হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, মহাকাশ, ফিনটেক এবং শিক্ষার মতো একাধিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে দুই নেতার মধ্যে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রিকস সম্মেলন উপলক্ষে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে জড়ো হয়েছেন বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতা। এই ব্যস্ততার মধ্যেই সম্মেলনের ফাঁকে সময় বার করে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। এই সাক্ষাতে বিশেষ একটা মুহূর্তও ছিল, মার্কোসের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান মোদী।
কী নিয়ে আলোচনা হল দুই নেতার মধ্যে
২০২৫ সালের অগস্টে মার্কোসের ভারত সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে যে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ স্থাপিত হয়েছিল, এবারের বৈঠকে তারই অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন মোদী এবং মার্কোস। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, মহাকাশ, ফিনটেক এবং শিক্ষার মতো ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও নিবিড় করার বিষয়ে সহমত হয়েছেন দুই নেতা। এর পাশাপাশি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং সৃজনশীল শিল্পক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের মধ্যে একটি পৃথক বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে দুই নেতা ভারত ফিলিপিন্স স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে ক্রমবর্ধমান গতি নিয়ে পর্যালোচনা করেন এবং বাণিজ্য, প্রযুক্তি, মহাকাশ, উদ্ভাবন, সৃজনশীল শিল্পক্ষেত্র এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি ভারত ও আসিয়ানের মধ্যে সম্পর্ক আরও কীভাবে মজবুত করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে দুই নেতার মধ্যে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় ফিলিপিন্সের নতুন যোগদান
বৈঠকে মোদী স্বাগত জানিয়েছেন ফিলিপিন্সের কোয়ালিশন ফর ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা CDRI তে যোগদানের সিদ্ধান্তকে। ভারতের উদ্যোগে তৈরি হওয়া এই আন্তর্জাতিক জোটের লক্ষ্য দুর্যোগ সহনশীল পরিকাঠামো তৈরিতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো। ফিলিপিন্সের মতো ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হওয়া দেশের এই জোটে যোগ দেওয়াকে তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
আসিয়ান সম্পর্ক নিয়েও কথা
মার্কোস বর্তমানে আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্বে আছেন। সেই সূত্রেই বৈঠকে ভারত এবং আসিয়ানের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বাড়ানোর যে বৃহত্তর লক্ষ্য, এই বৈঠক তারই একটা অংশ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
মোদীর বার্তায় জন্মদিনের শুভেচ্ছা
বৈঠকের পরে সমাজমাধ্যমে মোদী নিজেই এই সাক্ষাতের কথা জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগল। তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানিয়েছি।” ভারত ফিলিপিন্স স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে ক্রমবর্ধমান গতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি, যেখানে অর্থনৈতিক যোগসূত্র, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, মহাকাশ, উদ্ভাবন এবং সৃজনশীল শিল্পক্ষেত্রকে মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই বার্তার একটা সংস্করণ তাগালগ ভাষাতেও প্রকাশ করা হয়েছে, যা ফিলিপিন্সের সাধারণ মানুষের কাছে বার্তাটি পৌঁছে দেওয়ার একটা সচেতন কূটনৈতিক প্রয়াস বলেই মনে করা হচ্ছে।
বড় কোনও আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে এই ধরনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক প্রায়ই খুব কম সময়ের হয়, কিন্তু তার গুরুত্ব কম নয়। মোদী এবং মার্কোসের এই সাক্ষাৎ দেখিয়ে দিল, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার ব্যাপারে ভারত কতটা মনোযোগী। প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ, বাণিজ্য থেকে দুর্যোগ মোকাবিলা, একাধিক ক্ষেত্রে ভারত ফিলিপিন্স সহযোগিতা আগামী দিনে কতটা বাস্তব রূপ পায়, সেটাই এখন দেখার।
