Friday, October 2, 2026
https://www.thekolkataherald.com/wp-content/uploads/2026/09/ISRO.mp3
GSLV F17 রকেটে EOS 05 উপগ্রহের সফল উৎক্ষেপণ এবং ভারতের মহাকাশ অভিযানের নতুন সাফল্য নিয়ে বাংলা সংবাদ প্রতিবেদন।

শ্রীহরিকোটা, ৪ সেপ্টেম্বর: রাত তখন সবে ভোরের দিকে গড়িয়েছে। ঘড়িতে কাঁটায় কাঁটায় ২টো ৫৫। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্রের দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে কমলা আগুনের শিখা ছড়িয়ে আকাশের দিকে উঠে গেল একটি রকেট। নাম তার GSLV F17। মহাকাশপ্রেমীদের কাছে যে রকেটের আরও একটা পরিচিত নাম আছে, দুষ্টু ছেলে। এই রকেটের পিঠে চেপেই মহাকাশে পাড়ি দিল ইসরোর নতুন পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ, EOS 05। আর তার হাত ধরেই চলতি বছরের প্রথম সম্পূর্ণ সফল উৎক্ষেপণের স্বাদ পেল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।

কোথায় গেল উপগ্রহ

উৎক্ষেপণের ঠিক ১৯ মিনিটের মাথায় EOS 05 কে সাব জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার কক্ষে বসিয়ে দেয় রকেটটি। এখান থেকে ধাপে ধাপে কক্ষপথ পরিবর্তন করে উপগ্রহটি পৌঁছবে তার আসল ঠিকানায়, পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার জিওসিনক্রোনাস কক্ষে। এই কক্ষের বিশেষত্ব হল, উপগ্রহ সেখানে থাকলে পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে একই তালে ঘোরে, ফলে আকাশের একটা নির্দিষ্ট বিন্দুতে যেন স্থির হয়ে থাকে সে। ইসরোর দাবি, এই প্রথম কোনও ভারতীয় ইমেজিং উপগ্রহকে এমন কক্ষে পাঠানো হল।

EOS 05 উপগ্রহের বৈশিষ্ট্য, জিওসিনক্রোনাস কক্ষপথ এবং GSLV রকেটের সক্ষমতা তুলে ধরা তথ্যচিত্র। ছবির উৎস: দ্য কলকাতা হেরাল্ডের সম্পাদকীয় গ্রাফিক্স বিভাগ

কেন এই নাম, দুষ্টু ছেলে

মহাকাশ মহলে GSLV রকেটকে নিয়ে এই ডাকনামের পিছনে লুকিয়ে আছে একটা লম্বা ইতিহাস। তরল হাইড্রোজেন আর তরল অক্সিজেন দিয়ে চলা এই রকেটের ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন যতটা শক্তিশালী, ততটাই খামখেয়ালি। কখনও নিখুঁত সাফল্য, তো কখনও আচমকা বিপর্যয়, এই দোলাচলেই বারবার পরীক্ষার মুখে পড়েছে রকেটটি। ২০২১ সালে এই সিরিজেরই একটি উপগ্রহ, তখনকার নাম ছিল EOS 03, ঠিক এই রকেটের গোলযোগেই কক্ষে পৌঁছতে পারেনি। সেই ব্যর্থতার ধাক্কা সামলে নতুন করে তৈরি হওয়া উপগ্রহটির নামই দেওয়া হয় EOS 05। বৃহস্পতিবার রাতে সেই উপগ্রহই সফলভাবে পৌঁছল কক্ষে।

কী কাজ করবে EOS 05

ইসরো সূত্রে জানা গিয়েছে, এই উপগ্রহ মূলত ব্যবহার হবে কৃষি, জলসম্পদ, নগর পরিকল্পনা, বনসম্পদ, সমুদ্রসম্পদ এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণের কাজে। জিওসিনক্রোনাস কক্ষে থাকার সুবিধা হল, একটানা একই এলাকার উপর নজর রাখা যায়। ফলে বন্যা কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের মতো আচমকা তৈরি হওয়া দুর্যোগ পরিস্থিতির উপরেও নজরদারি চালানো এবার তুলনায় সহজ হবে বলে মনে করছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা।

উৎক্ষেপণের পরে যা বললেন ইসরো প্রধান

উৎক্ষেপণের পরে ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন জানান, চলতি বছরের মধ্যেই মানুষবিহীন প্রথম গগনযান অভিযানের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সংস্থা। যদিও নির্দিষ্ট তারিখ এখনও জানানো হয়নি। এই সাফল্যের জন্য ইসরোকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও, যদিও তাঁর বিবৃতির হুবহু বয়ান সরকারিভাবে এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে এই সাফল্য যেন প্রমাণ করে দিল, বারবার হোঁচট খেয়েও ধৈর্য না হারালে জটিল প্রযুক্তিকেও কীভাবে বশে আনা যায়। আপাতত সবার নজর সেদিকেই, বাস্তবের মাটিতে EOS 05 তার প্রতিশ্রুতি কতটা রাখতে পারে।

Leave A Reply

Exit mobile version