Friday, October 2, 2026

প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi র নেতৃত্বাধীন Cabinet Committee on Economic Affairs রেল মন্ত্রকের চারটে নতুন প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে, যার মোট আনুমানিক খরচ প্রায় ৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পগুলো পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশ সহ আটটা জেলা জুড়ে বিস্তৃত থাকবে এবং ৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি ট্র্যাক ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। ২০৩০ ৩১ সালের মধ্যে এই প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ হওয়ার কথা।

কলকাতা হেরাল্ড ডট কম ডেস্ক: দেশের রেল পরিকাঠামো আরও মজবুত করতে বুধবার একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি। রেল মন্ত্রকের চারটে নতুন লাইন প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেগুলো একদিকে যেমন যাত্রী ও পণ্য চলাচলের সক্ষমতা বাড়াবে, তেমনি দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যের সঙ্গে সংযোগও উন্নত করবে। এই প্রকল্পগুলো তৈরি হচ্ছে PM Gati Shakti National Master Plan এর অধীনে, যেখানে বহুমুখী পরিবহন যোগাযোগ এবং যৌক্তিক দক্ষতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সমন্বিত পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে।

কোন কোন লাইন তৈরি হবে

অনুমোদিত চারটে প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ওড়িশার Kharagpur এবং Bhadrak এর মধ্যে সংযোগকারী ১৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ চতুর্থ লাইন। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের Rupnarayan এবং ওড়িশার মধ্যে সংযোগকারী ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চতুর্থ লাইনও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশার Bhadrak ও Haridaspur এর মধ্যে তৈরি হবে ৯০ থেকে ৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন। আর তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশের Gudimipundi ও Gudur এর মধ্যে তৈরি হবে ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন, যা ওড়িশার Cuttack এবং Paradeep অর্থাৎ Badabandha র মধ্যেকার সংযোগকেও অন্তর্ভুক্ত করবে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পগুলো

রেল মন্ত্রকের এক মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে ৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি ট্র্যাক ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা রুটগুলোতে নিরাপত্তা, পরিচালনগত দক্ষতা এবং পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতা অনেকখানি বাড়িয়ে তুলবে। এই সম্প্রসারিত নেটওয়ার্ক থেকে উপকৃত হবেন আনুমানিক ৬ হাজার ৪৪৮টা গ্রাম এবং প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ, যারা বসবাস করেন এই প্রকল্পগুলোর আওতাভুক্ত এলাকায়। এই উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ করে তুলবে বলেই মনে করছে রেল মন্ত্রক।

Kharagpur থেকে Bhadrak হয়ে Ranital পর্যন্ত এই লাইনটা মূলত Howrah Chennai রুটের যানজট কমানোর একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রকল্প Jamshedpur, Tatanagar এবং Durgapur র মতো ইস্পাত শিল্পাঞ্চলগুলোকে Paradip এবং Dhamra বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করবে, যা কাঁচামাল এবং তৈরি পণ্য পরিবহনের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলবে। রেল কর্তৃপক্ষের হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে Kharagpur Bhadrak অংশে লাইনের ব্যবহারের হার ইতিমধ্যেই প্রায় ৯১ শতাংশে পৌঁছে গেছে, যা প্রায় পূর্ণ সক্ষমতার কাছাকাছি। নতুন লাইন তৈরি না হলে এই ব্যবহারের হার ভবিষ্যতে বেড়ে ১৭৭ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যা কার্যত লাইনের ধারণক্ষমতাকে বহুগুণ ছাড়িয়ে যাবে। এই কারণেই বাড়তি লাইন তৈরির সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে রেল মন্ত্রক।

সময়সীমা এবং লক্ষ্য

এই চারটে প্রকল্প সম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ২০৩০ ৩১ সালের মধ্যে। প্রকল্পগুলো আটটা জেলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকা। মানুষ, পণ্য এবং পরিষেবা, তিন ক্ষেত্রেই এই প্রকল্পগুলো থেকে উন্নত সংযোগের সুবিধা মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই দিনে আরেকটা বড় অনুমোদন

শুধু এই চারটে প্রকল্পই নয়, বুধবার একই বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বিহারের Muzaffarpur, Sitamarhi এবং Sonbarsa র মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ রেল করিডোর উন্নয়নেও অনুমোদন দিয়েছে, যার আনুমানিক ব্যয় প্রায় ৩ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে Muzaffarpur থেকে Sonbarsa পর্যন্ত যাতায়াতের সময় বর্তমান দুই ঘণ্টা থেকে কমে প্রায় এক ঘণ্টায় নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা উত্তর বিহারের সংযোগ ব্যবস্থায় একটা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে।

উপসংহার

৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকার এই চারটে রেল প্রকল্প শুধু পরিকাঠামো উন্নয়নের একটা ধাপ নয়, বরং পূর্ব এবং দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী চলাচলের সক্ষমতা বাড়ানোর একটা সুচিন্তিত পরিকল্পনা। পশ্চিমবঙ্গের অংশে থাকা ৭৫ কিলোমিটার লাইনের কাজ সম্পন্ন হলে রাজ্যের সঙ্গে ওড়িশা এবং দক্ষিণ ভারতের সংযোগও আরও মজবুত হবে। ২০৩০ ৩১ সালের মধ্যে এই প্রকল্পগুলো সম্পূর্ণ হলে লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলেই আশাবাদী রেল মন্ত্রক।

Leave A Reply

Exit mobile version