সংক্ষিপ্ত সার: রাজ্য সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের বেতন, ভাতা ও অবসরকালীন সুযোগ সুবিধা নিয়ে মতামত জানানোর জন্য নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করল সপ্তম বেতন কমিশন। তবে শর্ত একটাই, ওয়েবসাইট ছাড়া কাগজে লেখা চিঠি, হার্ডকপি, পিডিএফ বা ইমেলের মাধ্যমে পাঠানো কোনও মতামতই আর বিবেচনা করা হবে না।
অর্থনীতি ডেস্ক: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। এই আলোচনাকে আরও সংগঠিত রূপ দিতে এবার একটি নির্দিষ্ট পোর্টাল চালু করল পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম বেতন কমিশন। ২ সেপ্টেম্বর জারি হওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে অর্থ দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, তথ্য প্রচার, উপাত্ত সংগ্রহ, মেমোরেন্ডাম গ্রহণ এবং সাক্ষাতের সময় ঠিক করার জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে, যার ঠিকানা https://7spc.wb.gov.in/
এখনই কী করা যাচ্ছে ওয়েবসাইটে
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওয়েবসাইটের যে অংশে মেমোরেন্ডাম এবং পরামর্শ জমা দেওয়া যায়, সেই মডিউলটি এখন সম্পূর্ণভাবে চালু হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ কর্মচারী সংগঠন বা ব্যক্তিগতভাবে কোনও কর্মী চাইলে এখনই নিজেদের মতামত জমা দিতে পারবেন।

কারা মতামত জানাতে পারবেন
কমিশনের আহ্বান জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের সব সংগঠনের কাছে। এর পাশাপাশি অর্থ দফতরের ২২ জুলাই জারি হওয়া রেজোলিউশন নম্বর ২৬৫৭ এফ পি ওয়ানের সংযুক্তিতে যে সব প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার নাম আছে, তাদেরও এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বলা হয়েছে। শুধু সংগঠন নয়, কোনও ব্যক্তি কর্মী বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মী নিজে থেকেও নিজের মতামত বা পরামর্শ জমা দিতে পারবেন।
কী কী বিষয়ে মতামত চাওয়া হচ্ছে
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বেতন, ভাতা, পদোন্নতি এবং অবসরকালীন সুযোগ সুবিধা সংক্রান্ত বিষয়ে মতামত জানানো যাবে। ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট মডিউলের মাধ্যমেই এই মতামত জমা দিতে হবে।
শেষ তারিখ ও কড়া শর্ত
মেমোরেন্ডাম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর। ওই দিন পর্যন্তই খোলা থাকবে সংশ্লিষ্ট মডিউল।
এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। কমিশন শুধুমাত্র ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জমা পড়া মেমোরেন্ডাম এবং পরামর্শই বিবেচনা করবে। কাগজে লেখা চিঠি, হার্ডকপি, পিডিএফ ফাইল বা ইমেলের মাধ্যমে পাঠানো কোনও মতামত আর গ্রহণ বা বিবেচনা করা হবে না।
কে জারি করল এই বিজ্ঞপ্তি
এই বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে কমিশনের নির্দেশে, এবং তাতে সই করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতরের মেম্বার সেক্রেটারি তথা সেক্রেটারি।
উপসংহার
সব মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, সপ্তম বেতন কমিশন এবার পুরো প্রক্রিয়াটাকেই ডিজিটাল খাতে নিয়ে যেতে চাইছে। কাগজের চিঠি বা ইমেলের মতো পুরনো পদ্ধতি বাদ দিয়ে শুধু ওয়েবসাইট নির্ভর ব্যবস্থা চালু করায় প্রক্রিয়াটা যেমন গোছানো হবে, তেমনই যাঁরা মতামত জানাতে চান তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনলাইনে গিয়ে কাজটা সেরে ফেলতে হবে। হাতে সময় আছে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত, তবে শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে এখন থেকেই ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রক্রিয়াটা শুরু করে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।


