সংক্ষিপ্ত সার: নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন আবাসিক মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখর রায়কে ডক্টর অব লিটারেচার বা ডি.লিট. উপাধিতে ভূষিত করল রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় এই সর্বোচ্চ একাডেমিক সম্মান।
বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: শিক্ষাজগতে বড় একটা স্বীকৃতি পেলেন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন আবাসিক মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখর রায়। এম.এ, এম.এড, এম.ফিল এবং পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই অধ্যাপক বর্তমানে কর্মরত আছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে। রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁকে দেওয়া হয়েছে ডক্টর অব লিটারেচার বা ডি.লিট. উপাধি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে উঁচু স্তরের একাডেমিক সম্মাননাগুলির একটি।
কী নিয়ে গবেষণা করেছিলেন তিনি?
রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল প্রখ্যাত বাংলা সাহিত্যিক ও গবেষক শঙ্করীপ্রসাদ বসুর জীবন ও সাহিত্যকর্ম। স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে গভীর গবেষণা এবং একাধিক গ্রন্থ রচনার জন্য পরিচিত শঙ্করীপ্রসাদ বসু বাংলা সাহিত্য ও গবেষণার জগতে একজন গুরুত্বপূর্ণ নাম। তাঁর জীবন ও কাজ নিয়েই দীর্ঘ গবেষণা চালিয়েছেন ড. রায়, যার স্বীকৃতিতেই মিলেছে এই ডি.লিট. উপাধি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তি। তাঁদের উপস্থিতিতেই ড. শেখর রায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় এই সম্মাননা।
শঙ্করীপ্রসাদ বসুর জীবন ও সাহিত্য নিয়ে ডি.লিট. গবেষণা, জানুন অধ্যাপক শেখর রায়ের কাজের কথা
নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন আবাসিক মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখর রায় ডি.লিট. উপাধি পেয়েছেন যে গবেষণার জন্য, তার কেন্দ্রে আছেন বিশিষ্ট বাঙালি সাহিত্যিক, গবেষক ও অধ্যাপক শঙ্করীপ্রসাদ বসু। তাঁর জীবন এবং সাহিত্যকর্ম নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালিয়েছেন ড. রায়।
শঙ্করীপ্রসাদ বসুর সাহিত্যকর্ম, গবেষণাচর্চা এবং তাঁর চিন্তাভাবনাকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে এই গবেষণা। বাংলা সাহিত্য এবং বৌদ্ধিক জগতে তাঁর সামগ্রিক অবদানকে বিশ্লেষণ করাই ছিল মূল লক্ষ্য, যেখানে উঠে এসেছে তাঁর জীবন এবং সৃষ্টির বিভিন্ন দিক। বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে শঙ্করীপ্রসাদ বসুর বিস্তৃত সাহিত্যকর্ম এবং তাঁর গবেষণাধর্মী রচনাগুলি। এর পাশাপাশি স্বামী বিবেকানন্দ এবং সমকালীন ভারতবর্ষ নিয়ে তাঁর দীর্ঘ গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন ড. রায়। তাই এই ডি.লিট. গবেষণাকে শুধু একজন সাহিত্যিকের জীবনচরিত অনুসন্ধান বললে ভুল হবে। বরং বাংলা সাহিত্য এবং গবেষণার পরিসরে শঙ্করীপ্রসাদ বসুর সামগ্রিক অবদানকে মূল্যায়ন করার একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস হিসেবেই একে দেখা হচ্ছে।
কী বললেন ড. শেখর রায়
সম্মাননা পাওয়ার পরে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ড. রায়। তাঁর কথায়, “এই সম্মান আমার দীর্ঘদিনের জ্ঞানচর্চা এবং একাডেমিক সাধনার একটা বড় প্রাপ্তি। অগ্রজ এবং গুরুজনদের স্নেহ আশীর্বাদ ছাড়া এই পথ চলা কখনওই সম্ভব হত না।” ভবিষ্যতেও শিক্ষা বিস্তার, জ্ঞানচর্চা এবং মানবকল্যাণের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখাই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি। নিজের শিক্ষক, শুভানুধ্যায়ী এবং পরিবারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ড. রায়ের এই সাফল্যে খুশির হাওয়া বইছে তাঁর প্রতিষ্ঠান, সহকর্মী অধ্যাপক ও গবেষক মহল এবং বৃহত্তর শিক্ষানুরাগী সমাজে। বিভিন্ন মহল থেকে ক্রমাগত শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানানো হচ্ছে তাঁকে।
একজন অধ্যাপকের এই ধরনের স্বীকৃতি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত পরিশ্রমের ফল নয়, তা গোটা প্রতিষ্ঠানের জন্যও গর্বের বিষয়। ড. শেখর রায়ের এই ডি.লিট. প্রাপ্তি আরও একবার প্রমাণ করে দিল, নিষ্ঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার সঠিক স্বীকৃতি একদিন না একদিন মেলেই। তাঁর এই সাফল্য আগামী প্রজন্মের গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলেই আশা প্রকাশ করছেন তাঁর সহকর্মীরা।


