সংক্ষিপ্ত সার: নয়াদিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম জোমার্ত তোকায়েভ। রাজনৈতিক সম্পর্ক থেকে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা পর্যালোচনা করেছেন দুই নেতা।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক যখন ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, ঠিক তখনই দিল্লিতে হল আরও একটা উল্লেখযোগ্য বৈঠক। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম জোমার্ত তোকায়েভ।
প্রাচীন সভ্যতাগত যোগসূত্রের কথা মনে করালেন মোদী
বৈঠকের শুরুতেই মোদী স্মরণ করেন ভারত এবং কাজাখস্তানের মধ্যে থাকা প্রাচীন সভ্যতাগত যোগসূত্রের কথা। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের সম্পর্কের যে স্থিতিশীল অগ্রগতি হয়েছে, তা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
কোন কোন ক্ষেত্রে হল আলোচনা
দুই নেতা পর্যালোচনা করেন রাজনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, উদীয়মান প্রযুক্তি, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি এবং মানুষে মানুষে সম্পর্কের মতো বিস্তৃত পরিসরের বিষয়। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও নিজেদের মতামত বিনিময় করেন দুই নেতা।
কী প্রতিশ্রুতি দিলেন দুই নেতা
আলোচনার শেষে দুই দেশের নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁরা দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সহযোগিতা শুধু দুই দেশের মানুষের কল্যাণেই নয়, গোটা অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক
মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি কারণে গুরুত্ব পাচ্ছে। জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের প্রশ্নে কাজাখস্তান ভারতের কাছে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এর পাশাপাশি সংযোগ ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তির প্রশ্নেও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হলে ভারতের বাণিজ্যিক এবং কৌশলগত অবস্থান আরও মজবুত হয়। এই প্রেক্ষাপটেই আজকের বৈঠককে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই বৈঠকে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি এবং উদীয়মান প্রযুক্তির উপর জোর দেওয়াটা একটা লক্ষণীয় পরিবর্তন। এতদিন মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আলোচনা হত মূলত তেল, গ্যাস এবং জ্বালানির প্রশ্নে। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বৌদ্ধিক সম্পদ এবং উদ্ভাবনের দিকটাও। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের প্রসঙ্গ ওঠাকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁরা, কারণ দেশীয় উৎপাদন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পক্ষেত্রের জন্য এই ধরনের খনিজের সরবরাহ ভারতের কাছে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, যদিও ঠিক কোন কোন খনিজ নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা সরকারি বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।
সংযোগ ব্যবস্থার প্রশ্নেও কাজাখস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, বিশেষত মধ্য এশিয়া হয়ে ইউরেশিয়ার বাজারে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে। পাশাপাশি ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামো সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা কাজাখস্তানের কাজে লাগতে পারে বলেও মনে করছেন কিছু পর্যবেক্ষক। তবে এই সবটাই বিশ্লেষকদের ব্যাখ্যা, বৈঠকের সরকারি বিবৃতিতে এই খুঁটিনাটি উল্লেখ নেই।
সাংস্কৃতিক এবং মানুষে মানুষে সম্পর্কের উপর জোর দেওয়াটাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনীতিবিদরা, কারণ শুধু বাণিজ্য বা বিনিয়োগ চুক্তি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ধরে রাখা সম্ভব নয়, তার জন্য দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও পারস্পরিক আস্থা এবং পরিচিতি জরুরি।
সংক্ষিপ্ত এই বৈঠক হলেও, যে ক্ষেত্রগুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে তার পরিধি বেশ বিস্তৃত, রাজনীতি থেকে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে প্রযুক্তি, প্রায় সবকিছুই উঠে এসেছে দুই নেতার কথোপকথনে। ভারত কাজাখস্তান কৌশলগত অংশীদারিত্বের এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা রূপ পায়, আগামী দিনে সেটাই হবে দেখার বিষয়।


