সংক্ষিপ্ত সার: নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে বিপদে পড়া নাবিকদের সাহায্যের জন্য একটি নতুন আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরির প্রস্তাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লক্ষ্য, বিভিন্ন দেশের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ এবং কূটনৈতিক দফতরগুলিকে একসূত্রে বেঁধে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়া।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শনিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন, যার নাম সিফেয়ারার্স ইমার্জেন্সি সাপোর্ট নেটওয়ার্ক। সমুদ্রে কর্মরত নাবিকদের নিরাপত্তা এবং সংকটকালীন সহায়তা নিশ্চিত করতেই এই প্রস্তাব বলে জানা গিয়েছে।
কী থাকছে এই প্রস্তাবে
প্রস্তাবিত এই নেটওয়ার্কের মূল লক্ষ্য হল বিভিন্ন দেশের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ এবং কূটনৈতিক মিশনগুলির মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র তৈরি করা। এর ফলে বিপদে পড়া কোনও জাহাজের নাবিকদের জন্য সঙ্কট সংকেত পাঠানো, চিকিৎসা সহায়তা জোগাড় করা, পরিবারকে দ্রুত খবর দেওয়া এবং প্রয়োজনে উদ্ধার করে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের নিজস্ব ব্যবস্থা আগে থেকেই আছে
এই আন্তর্জাতিক প্রস্তাব দেওয়ার আগে ভারত নিজের দেশে এই ধরনের একটা ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই চালু করেছে। ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে চালু হওয়া eNavik পোর্টালের মাধ্যমে নাবিকদের রিয়েল টাইম অবস্থান পর্যবেক্ষণ এবং সংকটকালীন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষত হরমুজ প্রণালীর মতো স্পর্শকাতর এলাকায় হামলার ঝুঁকি বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই পোর্টাল তৈরি করা হয়েছিল, যাতে বিদেশে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা যায় এবং প্রয়োজনে দ্রুত সাহায্য পাঠানো যায়।
কেন এই প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, বিশেষত পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন জলপথে সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে। এমন পরিস্থিতিতে শুধু একটা দেশের নিজস্ব ব্যবস্থার বদলে গোটা বিশ্বজুড়ে একটা সমন্বিত কাঠামো তৈরি হলে নাবিকদের নিরাপত্তা অনেক বেশি নিশ্চিত করা যাবে বলেই মনে করছে ভারত। এই প্রস্তাবকে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের মূল ভাবনা, অর্থাৎ সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সঙ্গেও জুড়ে দেখা হচ্ছে।
সমুদ্রে কর্মরত নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে এতদিন তেমন কোনও সমন্বিত কাঠামো ছিল না বললেই চলে। ভারতের এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের লক্ষ লক্ষ নাবিকের জন্য তা একটা বড় সুরক্ষা কবচ হয়ে উঠতে পারে। তবে প্রস্তাব বাস্তবে রূপ পেতে গেলে ব্রিকসভুক্ত এবং অন্যান্য দেশগুলির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয় এবং প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করাই হবে আসল চ্যালেঞ্জ।


