Friday, October 2, 2026

সংক্ষিপ্ত সারাংশ: Economic Times World Leaders Forum এ ভাষণ দিতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী S Jaishankar স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন থেকে নির্ধারিত হবে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো সম্পর্ক টিকে থাকতে হলে তা পারস্পরিক স্বার্থের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। অন্যদিকে পাকিস্তানকে তিনি বিশ্বের এক “ব্যতিক্রমী” দেশ বলে অভিহিত করেন, কারণ তার মতে অন্য কোনো দেশ প্রতিবেশীর উপর চাপ সৃষ্টি করতে এমন পদ্ধতিগতভাবে সন্ত্রাসবাদ ব্যবহার করে না।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত Economic Times World Leaders Forum এ ভারতের প্রতিবেশী নীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী S Jaishankar। তার বক্তব্যে উঠে আসে কীভাবে ভারত এখন তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে একতরফা সৌহার্দ্যের বদলে পারস্পরিক স্বার্থ এবং প্রতিদানের নীতির উপর দাঁড় করাতে চাইছে। বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান, দুই প্রতিবেশী দেশের প্রসঙ্গে তার মন্তব্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ দুটো ক্ষেত্রেই ভারতের অবস্থান স্পষ্ট এবং দৃঢ়ভাষায় তুলে ধরেছেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে জয়শঙ্করের বক্তব্য

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক চায়, যার ভিত্তি হবে পারস্পরিক স্বার্থ এবং প্রতিদান। তার কথায়, যেকোনো সম্পর্ক মসৃণভাবে কাজ করে তখনই, যখন উভয় পক্ষ একটা অভিন্ন ক্ষেত্র খুঁজে পায়, যেখানে সেই সম্পর্ক দুই দেশের জন্যই কার্যকর হয়। ২০২৪ সালে Sheikh Hasina সরকারের পতনের পর থেকে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কে যে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্যকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে Hasina র একটা ভার্চুয়াল মাধ্যম সংযোগ নিয়ে ঢাকায় যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তারও একটা জটিল প্রেক্ষাপট রয়েছে এই মন্তব্যের পেছনে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী Tariq Rahman র BRICS আউটরিচ অধিবেশনের জন্য নয়াদিল্লি সফরের বিষয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে বলেও জানা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদকেন্দ্রিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভারতের প্রতিবেশী নীতির তুলনামূলক চিত্র। ছবির উৎস: দ্য কলকাতা হেরাল্ডের সম্পাদকীয় গ্রাফিক্স বিভাগ

পাকিস্তান নিয়ে কড়া অবস্থান

পাকিস্তান প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর অনেক বেশি স্পষ্ট এবং কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান বিশ্বের একটা “ব্যতিক্রমী” দেশ, কারণ বর্তমান সময়ে অন্য কোনো দেশ প্রতিবেশীর উপর আক্রমণ এবং চাপ সৃষ্টি করতে এমন পদ্ধতিগত এবং ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসবাদ ব্যবহার করে না। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থানকেই আরও একবার স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন তিনি, যেখানে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগে সন্ত্রাসবাদের অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলার শর্তকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গেও কথা বলেন জয়শঙ্কর, যেখানে ২০২০ সালের Galwan সংঘর্ষের কঠিন সময় থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের অক্টোবরে Depsang এবং Demchok এলাকায় সেনা প্রত্যাহারের অগ্রগতি পর্যন্ত সম্পর্কের বিবর্তনের কথা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখাটাই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক উন্নতির অপরিহার্য পূর্বশর্ত। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে আত্মনির্ভরতার নীতি বিচ্ছিন্নতাবাদ নয়, বরং এটা ভারতের একটা শিল্পভিত্তিক সুরক্ষা কৌশল, যার মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে দুর্বলতার জায়গা থেকে নয়, বরং একটা আত্মবিশ্বাসী প্রতিযোগী হিসেবে বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারে।

জনমতের গুরুত্ব নিয়ে মন্তব্য

পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নে জনমতের ভূমিকা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটা মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, তিনি একটা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার একজন মন্ত্রী, তাই তিনি দেশের জনমতের প্রতি উদাসীন থাকতে পারেন না। এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে পাকিস্তানের ধারাবাহিক সন্ত্রাসবাদ এবং চীনের সীমান্ত সংক্রান্ত ঘটনাগুলো নিছক কূটনৈতিক ইস্যু নয়, বরং এগুলো দেশের কোটি কোটি মানুষের গভীর উদ্বেগের বিষয়, যা পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণেও প্রভাব ফেলে।

উপসংহার

জয়শঙ্করের এই মন্তব্য ভারতের প্রতিবেশী নীতির একটা স্পষ্ট এবং সুসংগঠিত দিকনির্দেশনা তুলে ধরে। বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার আগ্রহ এবং পাকিস্তানের প্রতি অবিচল কঠোর অবস্থান, এই দুটো দিকই প্রমাণ করে যে ভারত তার প্রতিবেশী সম্পর্কে একটা বাস্তববাদী এবং লেনদেনভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করছে। তবে এই ধরনের কূটনৈতিক অবস্থান কতটা কার্যকর ফলাফল বয়ে আনবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং আগামী দিনের ঘটনাপ্রবাহের উপর। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর এবং পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের স্থবির সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন আসে কিনা, সেদিকেই এখন নজর থাকবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের।

Leave A Reply

Exit mobile version