Friday, October 2, 2026

কলকাতা হেরাল্ড ডট কম ডেস্ক: ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের যুব সংগঠনের কার্যালয় ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে পুলিশের পদক্ষেপ আরও জোরদার হয়েছে। ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। নতুন গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম তফিক বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় মোট ১৩ জন গ্রেফতার হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে চারজন ইতিমধ্যেই জেলে রয়েছেন। নতুন ধৃতকে আজ আদালতে পেশ করার কথা।

ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে আরও একজন গ্রেফতার

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই গ্রেফতারের সংখ্যা বাড়ছে। পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে আরও একজন ধরা পড়েছেন বলে জানা গেছে। বক্তব্যে তাঁর নাম তফিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের তদন্ত সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার দিনকার একটি ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখার পর ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। সেই ফুটেজে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে যাওয়ার সময় পুলিশ এবং পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির যে অভিযোগ উঠেছিল, তারই ছবি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।সেই ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে শনাক্ত করার পরই ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নতুন ধৃতকে আজ আদালতে পেশ করার কথা।

মোট গ্রেফতার ১৩ জন

নতুন গ্রেফতারের পর ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় মোট ১৩ জন পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে চারজনকে ইতিমধ্যেই জেলে পাঠানো হয়েছে। তবে গ্রেফতারের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্যে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। তাই আদালতের নথি এবং কলকাতা পুলিশের আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্তের নাম ও তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারাগুলি আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।

কী ঘটেছিল ক্যামাক স্ট্রিটে

TMC দলীয় বিলবোর্ড এবং তার সঙ্গে থাকা কাঠামো অপসারণকে কেন্দ্র করেই মূল উত্তেজনার সূত্রপাত। অভিযোগ, কলকাতা পুরসভা এবং পুলিশের আধিকারিকরা সেটি সরাতে গেলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন বাধা দেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ ও পুরকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগ সামনে আসে। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজও পরে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। সেই ফুটেজ থেকেই নতুন করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

অফিসের মালিকানা ও লিজ নিয়েও প্রশ্ন

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাকে ঘিরে শুধু গ্রেফতার নয়, সংশ্লিষ্ট অফিসটি কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল, তা নিয়েও পৃথক আইনি প্রশ্ন উঠেছে। বাড়ির মালিক ramadevi goenka পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১ মার্চ দশ বছরের জন্য একটি লিজ চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল, ভবনটির Completion Certificate বা CC দেওয়ার পরেই দখল নেওয়ার বিষয়টি কার্যকর হওয়ার কথা। মালিকপক্ষের অভিযোগ, CC সংক্রান্ত বিষয়টি সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই ভবনটি ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁদের আরও দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আপত্তি জানানো হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। মালিকপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, এ নিয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সেই নোটিশের যথাযথ উত্তর না পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে থানায় অভিযোগ এবং প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক চাপানউতোরও অব্যাহত

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও থামেনি। একদিকে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার এবং মামলা, অন্যদিকে অফিসের ব্যবহার ও দখল নিয়ে মালিকপক্ষের অভিযোগ, দুই বিষয়কে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বক্তব্যেও প্রশাসনের পদক্ষেপকে সমর্থনের সুর শোনা গেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দলীয় কার্যালয় বা বিলবোর্ডের নামে এমন কোনও কাজের যৌক্তিকতা নেই যা জনপরিসরে সমস্যা তৈরি করে। পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়াকে তিনি সমর্থন করেছেন।

সামনে আদালতের দিকে নজর

নতুন করে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে আদালতে পেশ করার পর তদন্তের পরবর্তী গতিপথ আরও স্পষ্ট হতে পারে। ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে শনাক্তকরণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং ধৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। একই সঙ্গে অফিস ভবনের লিজ, দখল এবং Completion Certificate নিয়ে মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের মধ্যে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, তারও আইনি নিষ্পত্তি এখনও বাকি।

উপসংহার

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনা এখন আর শুধু একটি বিলবোর্ড অপসারণের বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। পুলিশের তদন্তে নতুন গ্রেফতার, মোট ১৩ জনের ধরা পড়া, তাঁদের মধ্যে চারজনের জেলে থাকা এবং ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে নতুন অভিযুক্ত শনাক্ত করার দাবি ঘটনাটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এর পাশাপাশি অফিস ভবনের লিজ ও দখল নিয়ে মালিকপক্ষের অভিযোগও পৃথক আইনি প্রশ্ন তৈরি করেছে। আগামী দিনে আদালতের শুনানি এবং পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে, এই ঘটনার প্রকৃত দায় কার এবং কোন অভিযোগগুলি শেষ পর্যন্ত আইনি বিচারে টিকে থাকে।

Leave A Reply

Exit mobile version