Thursday, August 20, 2026

কলকাতা হেরাল্ড ডট কম ডেস্ক: ভারতের Registrar General and Census Commissioner ২০২৭ সালের জনগণনার জনসংখ্যা গণনা পর্বের সময়সূচি জারি করেছে, যা ইতিমধ্যে লাদাখ এবং তুষারাবৃত অঞ্চলগুলোতে শুরু হয়ে গেছে। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথমবার জনগণনায় যুক্ত হচ্ছে জাতপাত গণনা। এর পাশাপাশি প্রশ্নপত্রে যুক্ত হয়েছে বাবা মা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য, Aadhaar, ভোটার আইডি সহ একাধিক পরিচয়পত্রের বিবরণ, যা নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

দশ বছর পরপর অনুষ্ঠিত হওয়া ভারতের জনগণনা এবার এসেছে একগুচ্ছ নতুন পরিবর্তন নিয়ে। ২০১১ সালের জনগণনার তুলনায় এবারের প্রশ্নপত্রে যুক্ত হয়েছে মোট ১৩টা নতুন প্রশ্ন, ফলে মোট প্রশ্নের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০টায়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তন হলো জাতপাত গণনার অন্তর্ভুক্তি, যা স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার ভারতের সার্বিক জনগণনার অংশ হচ্ছে।

জাতপাত গণনা কীভাবে হবে

নতুন প্রশ্নপত্র অনুযায়ী Scheduled Caste এবং Scheduled Tribe শ্রেণির উত্তরদাতারা একটা নির্দিষ্ট তালিকা থেকে তাদের জাতি বেছে নিতে পারবেন। তবে বাকি সব উত্তরদাতাকে তাদের জাতির নাম একটা open field এ নিজে হাতে লিখে জানাতে হবে। এছাড়া প্রশ্নপত্রে দুটো বাধ্যতামূলক বিকল্পও রাখা হয়েছে, “কোনো জাতি নেই” এবং “জাতি জানাতে ইচ্ছুক নই”।

বাবা মা সংক্রান্ত নতুন তথ্য

এই প্রথমবার জনগণনায় উত্তরদাতার বাবা এবং মা, দুজনের সম্পর্কেই বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তাদের ধর্ম, জন্ম তারিখ এবং জন্মস্থান, যা গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে জানাতে হবে। বাবা মা ভারতের বাইরে জন্মগ্রহণ করলে সেই তথ্য আলাদাভাবে নথিভুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ধরনের তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি অনেকটাই ২০১৯ সালে National Population Register বা NPR এর মহড়ার সময় ব্যবহৃত ফর্ম্যাটের সঙ্গে মিলে যায়।

নতুন পরিচয়পত্র সংক্রান্ত তথ্য

এবারের প্রশ্নপত্রে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে Aadhaar, মোবাইল নম্বর, ভোটার আইডি এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত তথ্যও। এছাড়া একটা নতুন প্রশ্ন যুক্ত হয়েছে COVID-19 টিকাকরণ নিয়ে, যেখানে উত্তরদাতাকে জানাতে হবে তিনি ভারতের ভেতরে না বাইরে টিকা নিয়েছিলেন। ধর্মের ক্ষেত্রে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ এবং জৈন, এই ছয়টা প্রধান শ্রেণির পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে “অন্যান্য ধর্ম” নামে একটা আলাদা কলামও, যারা এই ছয় শ্রেণির কোনোটাতেই পড়েন না তাদের জন্য।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং বিতর্ক

জাতপাত গণনার জন্য open field পদ্ধতি ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। দলটার যুক্তি, ২০১১ সালের Socio Economic Caste Census বা SECC এ একই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করার ফলে ৪৬ লক্ষেরও বেশি ভিন্ন ভিন্ন জাতির নাম উঠে এসেছিল, যাকে পরবর্তীতে তথ্য সংগ্রহের ত্রুটির কারণে “অনির্ভরযোগ্য” বলে চিহ্নিত করেছিল সরকার নিজেই। একই ধরনের সমস্যা আবার দেখা দিতে পারে কিনা, সেই প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকরা।

এছাড়া Aadhaar এবং মোবাইল নম্বরের মতো সংবেদনশীল পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের একাংশ। তাদের আশঙ্কা, এই তথ্য ভবিষ্যতে দেশজুড়ে National Register of Citizens বা NRC তৈরির কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও এই আশঙ্কার বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

উপসংহার

Census 2027 নিঃসন্দেহে ভারতের জনগণনার ইতিহাসে একটা উল্লেখযোগ্য মোড়, বিশেষ করে স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো সামগ্রিক জাতপাত গণনার অন্তর্ভুক্তির কারণে। বাবা মা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এবং একাধিক পরিচয়পত্রের বিবরণ যুক্ত হওয়ায় এবারের প্রশ্নপত্র আগের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তারিত এবং জটিল। তবে জাতপাত গণনার পদ্ধতি এবং সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ নিয়ে যে প্রশ্ন এবং উদ্বেগ উঠছে, তারও একটা স্পষ্ট এবং স্বচ্ছ জবাব প্রয়োজন। তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং গোপনীয়তা রক্ষা, এই দুটো বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলেই এই জনগণনা প্রকৃত অর্থে দেশের জনসংখ্যার একটা সম্পূর্ণ এবং নির্ভরযোগ্য চিত্র তুলে ধরতে পারবে।

Leave A Reply

Exit mobile version