চাকরি ও শিক্ষা প্রতিবেদক, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কলেজগুলিতে শিক্ষক, গ্রন্থাগারিক এবং শারীরশিক্ষা প্রশিক্ষকদের বদলির আবেদন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনল উচ্চশিক্ষা দফতর। এবার থেকে বদলি এবং পারস্পরিক বদলির জন্য আর কাগজে আবেদন করা যাবে না। নির্দিষ্ট অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমেই আবেদন জানাতে হবে।
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা উচ্চশিক্ষা দফতরের নির্দেশে সরকারি কলেজের শিক্ষক, গ্রন্থাগারিক এবং শারীরশিক্ষা প্রশিক্ষকদের বদলির জন্য এই নতুন ব্যবস্থা চালুর কথা জানানো হয়েছে। এর আওতায় পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা পরিষেবা এবং পশ্চিমবঙ্গ সাধারণ শিক্ষা পরিষেবার কর্মীরাও পড়বেন।
কোন কারণে বদলির আবেদন করা যাবে
নির্দেশ অনুযায়ী, বদলির আবেদন করা যাবে তিনটি প্রধান কারণে। সেগুলি হল শিক্ষাগত কারণ, স্বাস্থ্যগত কারণ এবং পারিবারিক কারণ।
তবে এই তিনটি কারণের ক্ষেত্রে ঠিক কোন পরিস্থিতিকে যোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা এই নির্দেশে দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট রোগ, পারিবারিক সমস্যা বা শিক্ষাগত পরিস্থিতির আলাদা তালিকা এখানে উল্লেখ করা হয়নি ।এর পাশাপাশি রয়েছে পারস্পরিক বদলির সুযোগ।
পারস্পরিক বদলিতে কী নিয়ম
দু’জন কর্মী নিজেদের কর্মস্থল পরস্পরের সঙ্গে বদল করতে চাইলে তাঁরা পারস্পরিক বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে।
দু’জন আবেদনকারীকে একই বিষয় পড়াতে হবে।
এ ছাড়াও প্রত্যেক আবেদনকারীকে নিজের আবেদনে যাঁর সঙ্গে পারস্পরিক বদলি করতে চাইছেন, তাঁর নাম এবং তাঁর কলেজের নাম উল্লেখ করতে হবে। অর্থাৎ, একজন কর্মী একা আবেদন করলেই পারস্পরিক বদলির আবেদন সম্পূর্ণ হবে না। সংশ্লিষ্ট দুই কর্মীকেই অনলাইনে আবেদন করতে হবে এবং পরস্পরের প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।
পছন্দের এলাকাও জানানো যাবে
নতুন অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদন করার সময় কর্মীরা তাঁদের পছন্দের কর্মস্থলের এলাকা উল্লেখ করতে পারবেন। জেলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মহকুমা পছন্দ করা যাবে। কলকাতার ক্ষেত্রে কলকাতা মহানগর এলাকা পছন্দ হিসেবে জানানো যাবে। ফলে বদলির আবেদন করার সময় কর্মীরা কোন এলাকার মধ্যে কর্মস্থল চান, সেই পছন্দও আবেদনের সঙ্গে জানাতে পারবেন।
পুরনো আবেদনের কী হবে
নতুন ব্যবস্থায় পুরনো কাগজে করা আবেদন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে জমা দেওয়া যে সমস্ত বদলির আবেদন এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, সেগুলিকে নির্দেশ অনুযায়ী ‘ফাইলড’ হিসেবে গণ্য করা হবে। তাই সেই পুরনো আবেদনের ভিত্তিতে নতুন ব্যবস্থায় বদলির প্রক্রিয়া এগোবে না। যাঁদের পুরনো কাগজের আবেদন এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁদের নতুন করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ, আগে আবেদন করা ছিল বলেই আর অপেক্ষা করে থাকলে হবে না। নতুন ব্যবস্থায় ফের আবেদন জানাতে হবে।
সাধারণ বদলি ও পারস্পরিক বদলির পার্থক্য
সাধারণ বদলির ক্ষেত্রে কোনও কর্মী নিজের শিক্ষাগত, স্বাস্থ্যগত অথবা পারিবারিক কারণের ভিত্তিতে আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট বদলি সঙ্গীর প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, পারস্পরিক বদলির ক্ষেত্রে দু’জন কর্মীর সম্মতি থাকতে হবে। দু’জনকেই একই বিষয় পড়াতে হবে এবং আবেদনপত্রে পরস্পরের নাম ও কলেজের তথ্য উল্লেখ করতে হবে। অর্থাৎ, সাধারণ বদলি মূলত ব্যক্তিগত কারণের ভিত্তিতে করা আবেদন। আর পারস্পরিক বদলি হল দুই কর্মীর সম্মতির ভিত্তিতে কর্মস্থল অদলবদলের আবেদন।
ছয় মাস অন্তর বদলির আবেদন
উচ্চশিক্ষা দফতরের নির্দেশে বলা হয়েছে, বদলির আবেদন সাধারণত ছয় মাস অন্তর গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ বছরে দু’বার বদলি প্রক্রিয়া চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এর উদ্দেশ্য হল একটি পরিকল্পিত ও স্বচ্ছ বদলি প্রক্রিয়া পরিচালনা করা। পাশাপাশি সরকারি কলেজগুলিতে শিক্ষক ও ছাত্রের অনুপাত বা পিউপিল টিচার রেশিও যথাযথ ভাবে সামঞ্জস্য করার কথাও বলা হয়েছে।
তবে ছয় মাস অন্তর আবেদন নেওয়া হবে বলেই প্রত্যেক আবেদনকারীকে বদলি দেওয়া হবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নির্দেশে নেই। আবেদনগুলি দফতরের বিবেচনার ভিত্তিতেই নিষ্পত্তি হবে।
কাগজে আবেদন বন্ধ
নতুন ব্যবস্থায় বদলি এবং পারস্পরিক বদলির আবেদন অনলাইনের মাধ্যমেই করতে হবে। কাগজে আবেদন জমা দেওয়ার পুরনো ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে। আগে যাঁরা কাগজে আবেদন করেছিলেন কিন্তু এখনও বদলির সিদ্ধান্ত পাননি, তাঁদেরও নতুন অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদন করতে হবে।
২০১২ সালের নির্দেশ বহাল
নতুন অনলাইন ব্যবস্থা চালু হলেও আগের বদলি সংক্রান্ত নির্দেশের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে। এই নির্দেশে ১৫ জুন ২০১২ সালের ৫৮৩ এডিএন (এ) নম্বর দফতরীয় আদেশের উল্লেখ রয়েছে। সেই ব্যবস্থার ধারাবাহিকতায় এবার বদলির আবেদন গ্রহণের জন্য অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা হল। নতুন নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
কোনও সমস্যা হলে কোথায় জানাতে হবে
নতুন বদলি ব্যবস্থা নিয়ে কোনও সন্দেহ বা অসুবিধা দেখা দিলে বিষয়টি উচ্চশিক্ষা দফতরের কাছে পাঠানো হবে। এই ধরনের বিষয়ে দফতরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে নির্দেশে জানানো হয়েছে।
সরকারি কলেজের কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
নতুন ব্যবস্থায় বদলির আবেদন করতে চাইলে সরকারি কলেজের শিক্ষক, গ্রন্থাগারিক এবং শারীরশিক্ষা প্রশিক্ষকদের কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে হবে। প্রথমত, আবেদন করতে হবে অনলাইনে। দ্বিতীয়ত, সাধারণ বদলির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত, স্বাস্থ্যগত বা পারিবারিক কারণ উল্লেখ করতে হবে। তৃতীয়ত, পারস্পরিক বদলির ক্ষেত্রে দুই আবেদনকারীকে একই বিষয় পড়াতে হবে এবং একে অপরের নাম ও কলেজের তথ্য আবেদনে দিতে হবে। আর যাঁরা আগে কাগজে আবেদন করেছিলেন কিন্তু এখনও সেই আবেদনের নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁদের নতুন করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
বদলি ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়
সরকারি কলেজের শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীদের বদলির প্রক্রিয়াকে অনলাইনের আওতায় এনে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল রাজ্য উচ্চশিক্ষা দফতর। সাধারণ বদলির পাশাপাশি পারস্পরিক বদলির আবেদনও এবার নির্দিষ্ট অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে করা যাবে।
বিশেষ করে পুরনো অনিষ্পন্ন কাগজের আবেদনকে ‘ফাইলড’ হিসেবে গণ্য করা এবং নতুন করে অনলাইনে আবেদন করার নির্দেশটি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পারস্পরিক বদলির ক্ষেত্রে একই বিষয় পড়ানোর শর্তও স্পষ্ট করা হয়েছে।
তবে শিক্ষাগত, স্বাস্থ্যগত এবং পারিবারিক কারণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা প্রয়োজনীয় নথির বিস্তারিত তালিকা এই নির্দেশে দেওয়া হয়নি। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট অনলাইন ব্যবস্থায় প্রকাশিত নির্দেশিকা ভালো ভাবে দেখে আবেদন করাই নিরাপদ।
