Friday, October 2, 2026

সংক্ষিপ্ত সার: রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তির প্রজ্ঞাপন জারি করল উচ্চশিক্ষা দফতর। ২০২৬ থেকে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য B.Ed, M.Ed, B.P.Ed এবং M.P.Ed কোর্সে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে, পুরোটাই অনলাইনে। বেসরকারি কলেজের ক্ষেত্রে ফি এর ঊর্ধ্বসীমা রাখা হয়েছে আগের মতোই ৭৫ হাজার টাকাভূমিকা

চাকরি ও শিক্ষা প্রতিবেদক: অগস্ট মাসের শেষে রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের ফল বেরনোর পরেই এবার শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তির পালা। উচ্চশিক্ষা দফতরের কলেজ স্পনসরড ব্রাঞ্চ গত ৩১ অগস্ট একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, ২০২৬ থেকে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য B.Ed, M.Ed, B.P.Ed এবং M.P.Ed কোর্সে ভর্তির নিয়মকানুন কী হবে। বিজ্ঞপ্তি নম্বর ১০০৩ এইচইডি ১৭০১৪, যার প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় সহ রাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে।

কবে শুরু, কবে শেষ

ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে। স্বাভাবিক নিয়মে গোটা প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে, আর ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ৩ নভেম্বর থেকে।

যদি কোনও আসন ফাঁকা থেকে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় আরও দুটো দফায় পোর্টাল খুলতে পারবে। তবে শর্ত একটাই, গোটা প্রক্রিয়া যেন ২১ নভেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ হয়। এই সময়সীমা পেরোনোর কোনও সুযোগ রাখা হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষে B.Ed ও M.Ed-সহ শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি, ফি এবং আসন সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা। ছবির উৎস: দ্য কলকাতা হেরাল্ডের সম্পাদকীয় গ্রাফিক্স বিভাগ

কোন কলেজ কীভাবে ভর্তি নেবে

সরকারি ও সরকার পোষিত কলেজ, এবং রাজ্য সরকার পোষিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলি নিজেদের মতো করেই অনলাইনে ভর্তি নেবে। কিন্তু স্ব-অর্থসাহায্যপুষ্ট বা বেসরকারি কলেজগুলির ক্ষেত্রে ভর্তি নেবে সংশ্লিষ্ট অ্যাফিলিয়েটিং বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্রীয়ভাবে। এক্ষেত্রে একটা শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য অ্যাফিলিয়েশন নবীকরণ না হলে ওই কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে না।

সংখ্যালঘু মর্যাদাপ্রাপ্ত কলেজ, সে সরকার পোষিত হোক বা বেসরকারি, তারাও নিজেদের মতোই অনলাইনে ভর্তি নেবে।

আসন সংরক্ষণ ও কোন পড়ুয়া কতটা সুযোগ পাবেন

পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির যে সব প্রশিক্ষণহীন প্রেষণে থাকা শিক্ষক আছেন, তাঁদের জন্য প্রতিটি ধরনের প্রতিষ্ঠানে ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। তবে এর জন্য NCTE র নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা থাকা আবশ্যক। ফাইনাল কাউন্সেলিং শেষেও যদি এই সংরক্ষিত আসন ফাঁকা থেকে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা সক্ষম কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে তা নতুন পড়ুয়াদের জন্য খুলে দেওয়া যাবে।

হোম ইউনিভার্সিটি এবং অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের মধ্যে আসনের ভাগও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য পোষিত অ্যাফিলিয়েটেড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই অনুপাত ৮০ অনুপাত ২০, অর্থাৎ ৮০ শতাংশ আসন থাকবে নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের জন্য। ইউনিটারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই অনুপাত আরও কড়া, ৯০ অনুপাত ১০। তবে কোনও কারণে হোম ইউনিভার্সিটির আসন ফাঁকা থেকে গেলে তা বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের দিয়ে পূরণ করা যাবে, উলটোটাও সত্যি।

ফি কত, আর কী কী বিনামূল্যে

বেসরকারি বা স্ব-অর্থসাহায্যপুষ্ট কলেজে ভর্তি ফি এর ঊর্ধ্বসীমা আগের মতোই রাখা হয়েছে, বছরে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা, যার মধ্যে ডেভেলপমেন্ট ফি ধরা আছে। এর সঙ্গে ফেরতযোগ্য জামানত হিসেবে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নেওয়া যাবে। হস্টেলের খরচ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফি অবশ্য এই ঊর্ধ্বসীমার বাইরে, তা আলাদা করেই নেওয়া যাবে।

ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়ায় নথিপত্র স্ক্যান করা বা আপলোড করার জন্য কোনও পড়ুয়ার কাছ থেকে টাকা নেওয়া যাবে না। আবেদনপত্র বা প্রসপেক্টাসের জন্যও কোনও চার্জ ধার্য করা যাবে না।

টাকা মেটানো ও নথি যাচাইয়ের নিয়ম

ফি জমা দিতে হবে শুধুমাত্র ই পেমেন্ট বা নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক শাখার মাধ্যমে, কলেজ চত্বরে নগদে কোনও টাকা নেওয়া যাবে না। মেধা তালিকা অনুযায়ী যোগ্য পড়ুয়াদের নামের তালিকা আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক শাখায় পাঠিয়ে দিতে হবে, যাতে টাকা জমা নেওয়ার সময় যাচাই করা যায়।

যোগ্য পড়ুয়াদের সরাসরি চিঠি, ইমেল বা ফোনের মাধ্যমে জানাতে হবে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।

সব শংসাপত্র আবেদনের সময়েই অনলাইনে আপলোড করতে হবে। আসল নথি যাচাই হবে পড়ুয়ারা ক্লাসে যোগ দেওয়ার পরে। কিন্তু অনলাইনে জমা দেওয়া তথ্যের সঙ্গে যদি আসল নথির অমিল ধরা পড়ে, তাহলে ভর্তি বাতিল হয়ে যাবে সঙ্গে সঙ্গেই।

উপসংহার

সব মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, এবারের বিজ্ঞপ্তিতে আগের বছরগুলির মতোই ফি এর ঊর্ধ্বসীমা এবং অনলাইন নির্ভর স্বচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ার উপর জোর দিয়েছে উচ্চশিক্ষা দফতর। তবে সময়সীমা বেশ কড়া। মাত্র দেড় মাসের মধ্যে গোটা ভর্তি প্রক্রিয়া সেরে ফেলতে হবে, আর ২১ নভেম্বরের সময়সীমা পেরোনোর কোনও সুযোগ নেই। যাঁরা এবার B.Ed, M.Ed, B.P.Ed বা M.P.Ed কোর্সে ভর্তি হতে চান, তাঁদের হাতে সময় বেশি নেই, তাই প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়াই ভালো।

Leave A Reply

Exit mobile version